শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৪

ক্ষয়রোগ

চারপেয়ে পাখি ও রতির সংলাপ, ধূপসঙ্ঘর্ষের মতো ভেঙ্গে পড়েছে
এই পারিজাত, এই আঘাত, এই মনোহর ক্রুশদাগ
এ আমাদের আবাল্য প্রণয়- গোপনে গোপনে অনাদিকাল
বৈধতা চাইবে।

তৃষ্ণার্ত বালুকণা অথবা যিশুর পদরেখা ধরে
জন্মানো বালকবালিকা, ওরাও বৈধতা চাইবে প্রতি জন্মের;

হৃষ্ট হৃদয় তোমার; সাজিয়েছ আমালকি স্বাদে, স্বেদেও নিদারুণ
ঝর্ণাপতন।

এই যে আলো, আকাশে ছাড়িয়েছে ময়ূরপুচ্ছ-
মুছে গেছে গোধূলি

রাতভর রতি ও পাখি এড়াতে পারেনি ক্ষয়রোগ।

মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০১৪

না ফেরার মতো

যেতে হবে না ফেরার মতো। এই শীতল দুপুর নেমে আসে আগেকার মতো। অথচ এখন ফেরার মতো দেশ নাই; শুধু নওপাখিদের রক্তচিৎকার শুনি

দূরে লেবুগাছ, নিকটে সারকোস্টিক পানীয়, এ উদ্দাম একাকীত্ব চক্রবৃদ্ধির মরিচিকায় তুলে রাখি রাতের শিরে

একই দুঃস্বপ্নের রাত্রিরে কেউ পরোয়া করে না- তাই ফিরে ফিরে আসে লবনচাষী; মর্ত্যের জাদুকর শোন, গাছের ক্লান্তি, ফলের ক্লান্তি, রাস্তা ও পথের ক্লান্তি আর সমূহ নিষেধ ছেড়ে অস্তগামী পৃথিবীর বাসে উঠে যাবো, চলে যাবো কোন পঙ্কিল জলাশয়ে

বুধবার, ১১ জুন, ২০১৪

অ্যানালোজি

সমুদ্রে তার ছায়া পড়েছে, কাশ্যপ গোত্রিয়
ফেনার লিপিতে এ জাতক সংবাদ
লেখা রইল।

তবু সমুহ আনন্দের ঘোরে এবং পবিত্র বিপদে
ফুলকা বাণিজ্যে শরণ নেবো
অবশিষ্ট স্থলভাগে

মেদিনী কি পবিত্র? গোমূত্রে ডোবানো পদরেখা
ধরে কুলের হদিস পেয়ে যাবে
পৃথিবীর অ্যানালোজি বুকে লালন করেছ ললনা

তার ছায়া পড়ে নাই, আশ্চর্য মেদুরে

মঙ্গলবার, ১০ জুন, ২০১৪

সূর্য যেদিকে ওঠে

সূর্য যেদিকে ওঠে তার পাশে কুড়ে ঘর
তারপাশে সোনালি হাওয়া
হাওয়ার গভীর থেকে উঠে আসে জামরুল
সিঁদুরে আমের আঁটি

উঠানে পড়ে আছে চৈতণ্যের নাম
ইষ্টকুটুম পাখির পালক
আর বৃষ্টি নামার মতো অপেক্ষমান
উত্থান

এই মহীনের জলে ভাসছে সূর্যপ্রণাম
ভেসে যাচ্ছে স্ত্রোতাংশ
এবং মীনময় পৃথিবীর জৌলুশ যাচ্ছে
ভেঙ্গে ভেঙ্গে দুলে দুলে

রবিবার, ১ জুন, ২০১৪

মহাভারতের কথা

অন্ধ, তুমি পথ দেখাও; নিয়া যাও সেই উদ্যানে
যেখানে বধির আমরা শ্রুতিধর ছিলাম

সময়ের কুরুক্ষেত্রে কে কৃষ্ণ কে কর্ণ কে দুর্যোধন
কৃষ্ণা ও কৌন্তেয়, সবই তো আর্যের দম্ভকোলাহল

রাজরাজন্যের যুদ্ধে আমাদের ধর্ম কই?

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০১৪

দ্বিধাচূর্ণ

মিথ্যার নামে লিখছি এই অভয়। রোজ ময়ূরের বিয়ে দেখি, রাত্রির শালিনতা ভেঙ্গে
পলায়নবৃত্তির দিকে ঝুকে থাকি, বরাহ বিরহে

আকাশ চাইতে নেই, মেঘ এসে জমে। বৃষ্টির ধারায় রবিসুখের দিন শেষ

মানুষের কাছে মেদ জমে থাকে- দিবসের চৌকাঠে বেজে ওঠে জাহাজস্মৃতি
কিঞ্চিৎ কাঞ্চনমূল্যরজত কি শোধ হবে দ্বিজাদেশে? হে বিরহবিমুখ
হে অশ্বিনী তনয়া, কুচময়ী

নশ্বর নগরে তবু গাছ ওঠো। ওঠে কুষ্ঠকোলাহল
জন্ম জরা অভিনয়, মোটেও মিথ্যে নয়

যা কিছু জ্ঞাত
যা কিছু মধ্যম
গ্রন্থিত যা কিছু
তোমার আমার প্রণয়ের মতো সবই দ্বিধার চূর্ণ
সবই উড়ে যায় নিষেধের অভয়াশ্রমের দিকে

বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০১৪

চুম্বনঘোরে


শাওয়ার কখনো মিথ্যা বলে না- প্রতিদিনই আষাঢ়
মেটালিক মেঘ ওড়ে অতিদূরে, নামে সংলাপ অঝোর

দুইবার চেইন টেনে তুমি দাঁড়িয়েছ একবার
অলস পাখির চোখে রাখ মাছরাঙা ভীতি

হয়তো বৃষ্টিবিভূই; পিঁপড়ে ও পায়রা বোঝাই
হয়তো রেলগাড়ি থেমেছে কেশগুপ্ত স্টেশানে

এই বুঝি আবার ঝরবে ছায়া চৌম্বকআলোয়
এই বুঝি মুছে গেল মগ্নসুদিন

কেউ কি তবে এখনো সত্য বলে, রহস্যের ভোরে
ঝিরঝির শব্দে পেতে আছ কান কার চুম্বনঘোরে?